সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ মুন্সিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ
মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার মেয়ে তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তার মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনীতির পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী একজন জনপ্রতিনিধি।
১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার পিতা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ এবং ACME Laboratories-এর প্রতিষ্ঠাতা। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ব্যবসা ও রাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে পিতার মৃত্যুর পর একমি গ্রুপে যোগ দিয়ে ১৯৮৩ সাল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির মাধ্যমে নেতৃত্বের সূচনা হলেও ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও ২০২৫ সালে আবারও মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। তার মৃত্যুতে লৌহজং-টঙ্গীবাড়ী অঞ্চলে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনসহ পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, "দৈনিক মুন্সিগঞ্জ সংবাদ পরিবার;, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এই জননেতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন