চার বছরের অপেক্ষার অবসান, শুরু হচ্ছে ফুটবল মহাযজ্ঞ: বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে যত জানা জরুরি
দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ পর্দা উঠছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল এই বিশ্বকাপ ঘিরে ইতোমধ্যে উন্মাদনায় মেতে উঠেছে ফুটবলপ্রেমীরা। এবারই প্রথম ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ, যা টুর্নামেন্টটিকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে। উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্বাগতিক উরুগুয়ে। এরপর থেকে মোট ২২টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বাধিক ৫ বার শিরোপা জিতেছে Brazil national football team। এরপর রয়েছে Germany national football team ও Italy national football team, উভয়ের ঝুলিতে ৪টি করে ট্রফি। তিনবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে Argentina national football team।
এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে তিনটি দেশে— United States, Canada এবং Mexico। ইতিহাসে এই প্রথম তিনটি দেশ যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। ১৬টি ভেন্যুতে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ম্যাচ হবে মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত Estadio Azteca-তে এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির MetLife Stadium-এ।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো দলের সংখ্যা বৃদ্ধি। আগের ৩২ দলের পরিবর্তে এবার অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল। ১২টি গ্রুপে বিভক্ত দলগুলো থেকে সেরা ৩২টি দল নকআউট পর্বে উঠবে। এর ফলে বিশ্বকাপের ম্যাচসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ।
পুরস্কারের দিক থেকেও এটি ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ। ফিফা জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের জন্য মোট প্রায় ৬৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাইজমানি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, রানার্স-আপ ৩৩ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় স্থান অধিকারী ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল, রাউন্ড অব ১৬ এবং গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও রয়েছে উল্লেখযোগ্য অর্থ পুরস্কার। বিশ্বকাপের সামগ্রিক আর্থিক প্যাকেজ প্রায় ৮৭১ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল ম্যাচ বলের নাম ‘ট্রিওন্ডা (Trionda)’। জার্মান ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী Adidas তৈরি করেছে এই বল। তিনটি স্বাগতিক দেশের প্রতিনিধিত্ব করতেই ‘Tri’ এবং ‘Onda’ শব্দের সমন্বয়ে নামকরণ করা হয়েছে ট্রিওন্ডা। বলটিতে অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে, যা রেফারিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
স্পন্সরশিপের ক্ষেত্রেও বিশ্বকাপ ২০২৬ পেয়েছে বড় বড় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল Public Investment Fund (PIF) বিশ্বকাপের অন্যতম অফিসিয়াল টুর্নামেন্ট সাপোর্টার হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের ফিফা পার্টনার , , সহ আরও বেশ কয়েকটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল ব্র্যান্ডিং ও প্রচারণায় ব্যবহৃত হচ্ছে “We Are 26” ধারণা, যা ফুটবলকে ঘিরে বিশ্বের কোটি মানুষের ঐক্য ও অংশগ্রহণকে তুলে ধরে। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সংও ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে ফিফা।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞে এবার নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বিশ্ব। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কি শিরোপা ধরে রাখতে পারবে, নাকি ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি কিংবা অন্য কোনো দল বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করবে— সেই উত্তর মিলবে আগামী এক মাসের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে। আপাতত বিশ্বজুড়ে একটাই স্লোগান— ফুটবলের উৎসবে মেতে ওঠার সময় এসে গেছে।
আপনার মতামত লিখুন