ঢাকা    শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
দৈনিক এস এইচ এন্টারটেনমেন্ট

পঞ্চাশ বছরের প্রাচীন মুন্সীগঞ্জের পয়সা কারামাতিয়া মাদ্রাসাকে মডেল করার দৃঢ় প্রত্যয়



একটি বিদায় মানেই নতুন এক সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা। মুন্সীগঞ্জের বুকে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসা পয়সা কারামাতিয়া আলিম মাদ্রাসায় বেজে উঠেছে সেই বিদায়ের সুর। ২০২৬ সালের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সাফল্য কামনায় বুধবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো এক আড়ম্বরপূর্ণ বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল। দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শত শত শিক্ষার্থীর পদচারণায় দিনটি পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।

https://www.facebook.com/share/v/14dAAjg1WGr/

অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের স্বশরীরে উপস্থিতি, যা মুন্সীগঞ্জের এই জনপদে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ রইছ উদ্দীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তবে তিনি শুধু অনুপ্রেরণাতেই থেমে থাকেননি; ৫০ বছর বয়সী এই প্রতিষ্ঠানটি এখনও আলিম স্তরে আটকে থাকায় হতাশা ব্যক্ত করে তিনি দ্রুত ফাজিল স্তর চালুর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। দাপ্তরিক সকল প্রক্রিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি মাদ্রাসাটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ আবু জাফর খান বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "তোমরা কেবল পরীক্ষার্থী নও, তোমরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ। ইসলামী মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলে সমাজকে আলোকিত করার দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে।"

নিজের পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি জনাব শাহিন মোল্লা। তিনি বলেন, "যে আঙিনায় একদিন ছাত্র হিসেবে হেঁটেছি, শিক্ষকদের বকা শুনেছি, আজ সেখানে দায়িত্ব পালন করাটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো।" তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ, যুগোপযোগী ও আধুনিক মডেল মাদ্রাসায় রূপান্তরের জন্য সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থনা করেন।

এবারের দাখিল পরীক্ষায় ৩৭ জন এবং আলিম পরীক্ষায় ২৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। পাঁচশোর বেশি শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর জানুয়ারিতে দাখিল ও সাধারণ ভর্তি এবং দাখিল পরীক্ষার পর আলিম স্তরে ভর্তি কার্যক্রম চলে।

বিদায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলংকৃত করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ডক্টর নাসিরউদ্দিন, মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব খলিল সিকদার, সমাজসেবক আলহাজ্ব শামছুল হক, শিল্পপতি আলহাজ্ব শামসুল হক বেপারী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব বিল্লাল হোসেন হাওলাদার এবং স্থানীয় বৌলতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক শিকদার। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অশ্রুসজল চোখ এবং শিক্ষকদের স্নেহমাখা দোয়ার মধ্য দিয়ে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক এস এইচ এন্টারটেনমেন্ট

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


পঞ্চাশ বছরের প্রাচীন মুন্সীগঞ্জের পয়সা কারামাতিয়া মাদ্রাসাকে মডেল করার দৃঢ় প্রত্যয়

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

একটি বিদায় মানেই নতুন এক সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের সূচনা। মুন্সীগঞ্জের বুকে দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসা পয়সা কারামাতিয়া আলিম মাদ্রাসায় বেজে উঠেছে সেই বিদায়ের সুর। ২০২৬ সালের দাখিল ও আলিম পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সাফল্য কামনায় বুধবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো এক আড়ম্বরপূর্ণ বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল। দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শত শত শিক্ষার্থীর পদচারণায় দিনটি পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।

https://www.facebook.com/share/v/14dAAjg1WGr/

অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের স্বশরীরে উপস্থিতি, যা মুন্সীগঞ্জের এই জনপদে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ রইছ উদ্দীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তবে তিনি শুধু অনুপ্রেরণাতেই থেমে থাকেননি; ৫০ বছর বয়সী এই প্রতিষ্ঠানটি এখনও আলিম স্তরে আটকে থাকায় হতাশা ব্যক্ত করে তিনি দ্রুত ফাজিল স্তর চালুর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন। দাপ্তরিক সকল প্রক্রিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি মাদ্রাসাটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ আবু জাফর খান বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "তোমরা কেবল পরীক্ষার্থী নও, তোমরাই আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশ। ইসলামী মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলে সমাজকে আলোকিত করার দায়িত্ব তোমাদেরই নিতে হবে।"

নিজের পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি জনাব শাহিন মোল্লা। তিনি বলেন, "যে আঙিনায় একদিন ছাত্র হিসেবে হেঁটেছি, শিক্ষকদের বকা শুনেছি, আজ সেখানে দায়িত্ব পালন করাটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো।" তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ, যুগোপযোগী ও আধুনিক মডেল মাদ্রাসায় রূপান্তরের জন্য সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থনা করেন।

এবারের দাখিল পরীক্ষায় ৩৭ জন এবং আলিম পরীক্ষায় ২৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। পাঁচশোর বেশি শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর জানুয়ারিতে দাখিল ও সাধারণ ভর্তি এবং দাখিল পরীক্ষার পর আলিম স্তরে ভর্তি কার্যক্রম চলে।

বিদায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চ অলংকৃত করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ডক্টর নাসিরউদ্দিন, মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব খলিল সিকদার, সমাজসেবক আলহাজ্ব শামছুল হক, শিল্পপতি আলহাজ্ব শামসুল হক বেপারী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব বিল্লাল হোসেন হাওলাদার এবং স্থানীয় বৌলতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক শিকদার। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অশ্রুসজল চোখ এবং শিক্ষকদের স্নেহমাখা দোয়ার মধ্য দিয়ে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে।


দৈনিক এস এইচ এন্টারটেনমেন্ট

<b>সম্পাদক:</b> সুমন আহমেদ<div>
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক এস এইচ এন্টারটেনমেন্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত