মুন্সিগঞ্জে চুরি যাওয়া লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধার, গ্রেফতার সাজাপ্রাপ্ত চোর
মুন্সিগঞ্জের কুমারভোগ এলাকায় দুঃসাহসিক চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চুরি যাওয়া লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা অপরাধী চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পদ্মা সেতু উত্তর থানা পুলিশ। রবিবার (১১ মে) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামির নাম সাব্বির খান (২৫)। পুলিশের দাবি, সাব্বির দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
জানা যায়, কুমারভোগ গ্রামের গৃহবধূ অন্তরা আক্তার অনিকা তার সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে গেলে বসতঘরটি সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে পড়ে। এই নির্জনতার সুযোগ নেয় সাব্বির ও তার সংঘবদ্ধ দল। তারা পরিকল্পিতভাবে টিনের বেড়া কেটে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে এবং অত্যন্ত সুকৌশলে আলমারির তালা ভেঙে ফেলে। সেখান থেকে তারা মূল্যবান একটি স্বর্ণের চেইন, দুটি স্বর্ণের আংটি ও একটি রুপার চেইন চুরি করে। পুলিশ জানিয়েছে, লুট হওয়া এসব অলংকারের বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ চুয়াল্লিশ হাজার টাকা।
চুরি শেষে মালামাল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় অধিবাসীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে চোরেরা। এসময় সাব্বিরের সহযোগীরা, যাদের সংখ্যা অন্তত ৩ থেকে ৪ জন, দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে স্থানীয়দের ধাওয়ায় মূল অপরাধী সাব্বির হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কালবিলম্ব না করে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সাব্বিরকে আটক করেন। তার হেফাজত থেকে চুরিকৃত সমস্ত স্বর্ণালংকার অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। গ্রেফতারকৃত সাব্বির খান মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানাধীন মালির অংক বেজগাঁও এলাকার আওলাদ খানের ছেলে। সে দীর্ঘদিন বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অবস্থান করে অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করত। প্রায় এক মাস আগে মুন্সিগঞ্জে ফিরে এসে সে নতুন করে অপরাধমূলক কার্যক্রম শুরু করে। রেকর্ড ঘেঁটে পুলিশ জানতে পেরেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে আটটি চুরি ও ডাকাতির মামলা চলমান। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সে লৌহজং থানার একটি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।
পদ্মা সেতু উত্তর থানায় পেনাল কোডের ৪৫৪, ৩৮০ ও ৪১১ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জনসাধারণকে বাড়িঘর দীর্ঘ সময়ের জন্য ফাঁকা রেখে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন