নিষিদ্ধ নৌযান থেকে চাঁদা আদায়কারীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের প্রতি বিএনপির আল্টিমেটাম
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহরী-তালতলা খালে নিষিদ্ধ বাল্কহেড চলাচলের সুযোগ দিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বিএনপি। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে দলের ভেতরে ও বাইরের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতারা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের খেতেরপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে প্রশাসনের প্রতি এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
https://www.facebook.com/share/v/1Ktp47qcYb/
জানা গেছে, প্রশাসন এই খালে বাল্কহেড চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও চালকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত বাল্কহেড চলাচলে সহায়তা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দিন-রাত বেপরোয়াভাবে চলা এসব বাল্কহেডের কারণে খালের দুই তীরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বে এই খালে বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলার ডুবে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটলেও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামেনি। শুধু খালই নয়, গত এক দশক ধরে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে লৌহজং আজ নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে খিদিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন। সমাবেশে নেতারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, যারা চাঁদা আদায় করে নিষিদ্ধ নৌযান চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, বালু দস্যুতা বা চাঁদাবাজির সাথে বিএনপির কোনো স্তরের নেতাকর্মী বা সহযোগী সংগঠনের কেউ যদি জড়িত থাকে, তবে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। অপরাধীরা কোনো নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলেও তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খিদিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান লাভলু। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য এম শুভ আহমেদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাদল হোসেন হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ অভি, খিদিরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব শান্ত পাঠান ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহমেদ বেপারী। সমাবেশ থেকে সাংবাদিক সমাজের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে এসব চাঁদাবাজদের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচনের আহ্বান জানানো হয়। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার্থে এবং ভাঙনকবলিত জনপদকে নিরাপদ করতে প্রশাসনের কালক্ষেপণ না করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের।
আপনার মতামত লিখুন