একটি দুর্ঘটনাই কেড়ে নিল তরুণের প্রাণ বাড্ডায় বহুতল ভবন থেকে পড়ে নিহত এসি মিস্ত্রি
পরিবারের আর্থিক অভাব ঘোচাতে নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছিলেন ফাহিম। গ্রাম থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন কংক্রিটের শহর ঢাকায়। কিন্তু জীবিকার সেই সংগ্রাম তাকে ঠেলে দিল মৃত্যুর মুখে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় একটি ৬ তলা ভবনের বাইরের অংশে এসি মেরামতের সময় পা ফসকে নিচে পড়ে এই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকাই এই অকাল মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।https://www.facebook.com/share/v/1bBJkSkRua/
নিহত ফাহিমের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কনকসার ইউনিয়নের ধীৎপুর গ্রামে। তার শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার আগেই থেমে যায় জীবন সংগ্রাম। মাত্র এক বছর আগে, ২০২৫ সালে লৌহজং সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছিলেন ফাহিম। স্বপ্ন ছিল আরও পড়াশোনা করার। কিন্তু সংসারের অভাব তাকে বাধ্য করে এসি টেকনিশিয়ানের মতো একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যুক্ত হতে। অল্প বয়সেই পরিবারের বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
শনিবার বাড্ডার ওই বহুতল ভবনে কাজ করার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে আছড়ে পড়েন ফাহিম। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। কালবিলম্ব না করে তাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে ফাহিমের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। যে ছেলেটি পরিবারের হাল ধরতে বাড়ি ছেড়েছিল, তার কফিনবন্দি নিথর দেহ ফিরে যাওয়ায় পুরো ধীৎপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শহরাঞ্চলে বহুতল ভবনে এসি লাগানো বা মেরামতের কাজে শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছে। দড়ি বা সেফটি বেল্ট ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন তারা। ফাহিমের এই মৃত্যু আবারও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। শ্রমিকের জীবনের সুরক্ষায় অবিলম্বে কঠোর আইন ও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন